আজ

  • শনিবার
  • ৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং
  • ২০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পরকীয়ার বলি পর পর দুই মেয়ে, বাকরুদ্ধ প্রবাসী বাবা

আপডেট : সেপ্টেম্বর, ৩, ২০১৮, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ


পরকীয়ার বলি পর পর দুই মেয়ে, বাকরুদ্ধ প্রবাসী বাবা
রেজাউল হক হেলাল, ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার ৭নং মাতুভূঞা ইউনিয়নের আশ্রাফপুর গ্রামের বাসিন্দা। সৌদি আরব প্রবাসী ১৯৮৮ সালে পারিবারিকভাবে লক্ষিপুর জেলার রায়পুর নিবাসী অহিদুল্যার কন্যা নাছিমা আক্তারের সাথে ঢাকার কল্যাণপুরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

২০০৮ সালে অর্থনৈতিক উন্নয়নে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব আসার সময় ঢাকা দনিয়া কলেজের পাশে ভাড়া বাসায় আদরের দুই কন্যা, স্ত্রী নাসিমাকে রেখে আসেন।
সৌদি আরব পূর্বে দীর্ঘদিন বগুড়া চাকরিরত অবস্থায় থাকেন সেই সুবাদে সৌদি আরব আসার পর বগুড়ার কম্পিউটার শিক্ষক মশিউর রহমান মোহন পিতা বজলুর রহমান আমার মেয়েদের কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে বাসায় যাতায়াত শুরু করেন বলে তিনি জানান।
২০১২ সালে ২৯ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ আমার শাশুড়ি হাসিনা বেগম ও স্ত্রী নাসিমা আক্তার ফোনে বলেন, আমার প্রথম মেয়ে যাত্রাবাড়ী দনিয়া কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী নাবিলা হক ব্রেন স্টোকে ইন্তেকাল করেছে।
হাজার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ভিসা জটিলতার কারণে আমি বাংলাদেশে যেতে পারিনি। আমি যখন মেয়ের শোকে কাতর তখন আমার বাসায় কল দিয়ে স্ত্রী নাসিমা ও মেয়ে জিমুর সাথে ফোনে কথা বলতে চাইলে আমার শাশুড়ি হাসিনা বেগম আমাকে বলতেন আমার স্ত্রী বেহুস, মেয়ে কান্নাকাটি করছে, বিভিন্ন অজুহাতে আমার শাশুড়ি কথা বলতে দিতেন না।
নাবিলা মৃত্যুর ২০/২৫ দিন পর হঠাৎ করে জানান, আমার স্ত্রী মেয়ের শোকে মারা গেছেন, তখন প্রবাসে মানসিক ভাবে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ি। নাবিলার মার মৃত্যুর খবরের ৬/৭ মাস পর আমি বিভিন্ন সূত্রে খবর পাই আমার স্ত্রী নাসিমা আক্তার মেয়েদের কম্পিউটার শিক্ষক লম্পট প্রতারক খুনি মশিউর রহমানর সাথে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে ২৫ বছরের সাজানো সংসার ভেঙ্গে আমার অর্থ-সম্পদ, স্বর্ণালংকার সব নিয়ে পালিয়ে যায়।তখনো আমি ইকামা জটিলতায় ভুগছিলাম। আমার ছোট মেয়ে জামিলা হক জিমু তার নানুর কাছে রায়পুরে ছিলো এবং রায়পুর এল এম স্কুলে ভর্তি করে।
আমার শাশুড়ি আমাকে জানিয়েছিলো উনার মেয়ে নাসিমাকে ত্যাজ্য করেছেন। তিনি বলেন, তোমার জামিলা হক জিমুর বয়স ১৮ হলে তাকে তোমার বাড়ীতে নিয়ে যেও।
২০১৫/১৬ সালের কোন এক সময় অজানা গন্তব্য থেকে ফিরে এসে আমার শাশুর শাশুড়িকে ম্যানেজ করে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে, আমার মেয়ে জিমুর পিতা সেজে রায়পুর পৌরসভায় আমার শশুরের শশুর বাড়ীতে পরিবার ধ্বংসকারি পরকীয়া প্রেমিক প্রেমিকা মশিউর আরহমান এবং নাছিমা আক্তার আমার শশুর শাশুড়ি ও মেয়ে জিমুর সাথে বসবাস শুরু করে।
গত ২৭শে আগস্ট আমার মেয়ে রায়পুর রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী জামিলা হক জিমু ইন্তেকাল করেছে
বাবার (আমার) বাড়ীতে যাওয়ার বায়না ধরলে তার ডাইনী মা ও মায়ের পরকীয়া প্রেমিক মশিউর রহমান জিমুকে হত্যা করে এমনটাই জানান প্রবাসী রেজাউল হক হেলাল।
তিনি আরও বলেন, এই পর্যায়ে আমার বড় মেয়ে নাবিলা হক ও জামিলা হক জিমুকে পরিকল্পিতভাবে ঠাণ্ডা মাথায় নিষ্ঠুরভাবে পরকীয়ার কারণে পরিবার ধ্বংসের ঘাতক নাসিমা ও মশিউর রহমান মোহন মিলে পর পর দুই মেয়েকে হত্যা করে্ন। তারা আমার দুই মেয়েকে পরকীয়ার বলি বানিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিয়েছে। আমার ২৫ বছরের সুখী সংসার ধ্বংসের হোতা মশিউর রহমান মোহন স্ত্রী নাছিমা ও শাশুড়ি হাসিনা বেগমকে গ্রেফতার করে ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছি।