আজ

  • সোমবার
  • ১০ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৭শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ফেনী ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ২০ কোটি টাকা আত্মসাত

আপডেট : সেপ্টেম্বর, ৬, ২০১৮, ৫:২৯ অপরাহ্ণ


S-U-M-
ফেনী ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির লি ঃ এর ৫’শ গ্রাহকের ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দীর্ঘ ৫মাস সময় ক্ষেপন করে অবশেষে প্রতিবেদন দিয়েছে তদন্ত কমিটি। ৩০ আগষ্ট রাতে তদন্ত কমিটির ৩সদস্যের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন জমা দেন। এদিকে অভিযোগ কারীরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এ দায়সারা প্রতিবেদন জমাদানের অভিযোগ করেছেন।

সূত্রে জানাযায় ২০১৪ সালে ফেনী শহরের ষ্টেশান রোড়ে জেলা সমবায় সমিতির রেজিষ্ট্রেশা নিয়ে প্রায় ৫’শ শেয়ার নিয়ে দৈনিক চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রম শুরু করেন। ২০১৫ থেকে ১৭ইং পর্যন্ত সমিতির দায়িত্ব থাকেন আরজু সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বে পালন করেন ছাগলনাইয়া উপজেলা জামাত নেতা ও অর্থ যোগান দাতা ইয়াছিন আরাফাত। ২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সমিতির সাধারন সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত মজুমদার সমিতির জন্য ষ্টেশান রোড়ে কোটি টাকা ব্যয়ে সমিতি অফিসের জন্য নাহিদা পারভীন নামে এক মার্কেট মালিক ও সমিতির সদস্যের সাথে মার্কেট ক্রয়ের চুক্তি করে সমিতির হিসাব থেকে দুই চেকে ৩৫লাখ টাকা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ স্বাপক্ষে ইয়াছিন আরাফাত চুক্তি বদ্ধ হন।

এর পর সমিতির বিভিন্ন শেয়ার ভূয়া হোল্ডারের নামে দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উক্ত চুক্তি মতে কোটি টাকার মার্কেট নিজনামে ছাপকবলা দলিল করিয়ে নেন। এই সাথে ফেনী সদর সমবায় অফিসের কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের সহযোগিতায় ইয়াছিন আরাফাতের নামে ফেনী সদর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির লিঃ নামে অন্য একটি সমিতির রেজিষ্ট্রেশান নিয়ে ক্রয় কৃত মার্কেটে অফিস তৈরী করে কাজ শুরু করেন।

২০১৮ ইং সালে মার্চ মাসের নির্বাচনে সভাপতি হিসাবে দাযিত্ব পান ফেনী পৌর সভার ১৪ ওয়ার্ড আওয়ামী- লীগের সাধারন সম্পাদক ব্যবসায়ী আবদুল মতিন মিয়াজী ও ফরহাদ সম্পাদক নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর ইয়াছিন আরাফাত দায়িত্ব হসান্তর ও কাগজ পত্র উপস্থাপনে কাল ক্ষেপন শুরু করেন ইয়াছিন আরাফাত মজুমদার। নির্বচিত কমিটি দায়িত্ব হস্তান্তর ও জাল জালিয়তির অভিযোগ মুক্ত ভাবে দায়িত্ব নিতে জেলা সমবায় কর্মকর্তার সহযোগিতা চেয়ে ২২ এপ্রিল জেলা কর্মকর্তা বরাবরে সভাপতি-সম্পাদক লিখিত আবেদন করেন।

এরি মধ্যে আবদুল মতিন মিয়াজী ফেনীর দুলা মিয়া কটন মিলের হিসাব বিভাগের কর্মকর্তাকে দিয়ে নিজেরকাছে থাকা আংশিক বই পত্র দিয়ে একটি অডিট পত্র তৈরী করিয়ে নেন। উক্ত আংশিক অডিটে পত্রে প্রায় ২ কোটি টাকার হিসাবে গরমিল পেয়েছেন বলে দাবী করেন। সভাপতি সম্পাদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম দাঁগনভূঞা উপজেলার সমবায় কর্মকর্তা নুরুল মোস্তফাকে প্রধান করে ফেনী সদর কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম ও মোঃ সোহেলকে দিয়ে ২৩ এপ্রিল তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে দেন।

এদিকে তদন্ত কমিটিকে নিয়ন্ত্রন করতে ইয়াছিন আরাফাত মজুমদারের পক্ষে দায়িত্ব নেন পরশুরাম উপজেলা সমবায় অফিসের অফিস সহকারী মোঃ মনসুর আহম্মদ। মনসুর আহম্মদ তদন্ত কমিটিকে নিয়ন্ত্রন করতে তদন্ত কমিটির সদস্য দিদারুল ইসলাম ও মোঃ সোহেলকে বিপুল পরিমান টাকা দিয়ে ইয়াছিন আরাফাতের পক্ষে নিয়ে তদন্ত কাজের কাল ক্ষেপন শুরু করেন। তদন্ত কমিটির প্রধান ও অভিযোগ কারীরা জেলা কর্মকর্তার কাছে মনসুর আহম্মদের হস্তক্ষেপের বিচার চাইলে জেলা অফিসে সভাকরে মনসুরকে সাবধান করা হয়। এতে তদন্ত কমিটি সমন্বয় না করায় তদন্ত কাজ শুরু করতে বিলম্ব ঘটান।

আবেদন কারী আবদুল মতিন বিভিন্ন সময় অভিযোগের আংশিক কাগজ পত্র নিয়ে তদন্ত কমিটির কাছে হাজিরা দিলেও তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময় নষ্ট করে থাকেন। ২৯ আগষ্ট দুপুরে পূনরায় জেলা সমবায় অফিসে গিয়ে তদন্ত কাজে দিন ক্ষন জানতে হাজির হলে উক্ত তিন কর্মকর্তা তাদের কাছে লিখিত ভাবে আবরো কাগজ পত্র উপস্থপন করতে অনুরোধ করেন। ৩০ আগষ্ট সভাপতি আবদুল মতিন আবেদনের মাধ্যমে কাগজ পত্র জমা দিতে অফিসে হাজির হলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা শেষে তদন্ত কমিটির কোন সদস্যকে না পেয়ে ফিরে আসেন। পরে ৩ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটির প্রধানের দাঁগনভূঞা অফিসে হাজির হয়ে কাগজ পত্র জমা দিতে চাইলে উক্ত কর্মকর্তা তাদের পক্ষথেকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে দেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায় কোন পক্ষ কাগজ পত্র দিয়ে সহযোগিতা না করায় তদন্ত কাজ সঠিক ভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হয়নি বলে দেখানো হয়।

ফেনী ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল মতিন মিয়াজী জানান আবেদনের পর থেকে আমরা বার বার তদন্ত কমিটির সাথে যোগাযেগ করে কোন সহযোগীতা পাইনি। পরশুরাম অফিসের হিসাব সহকারী মনসুর তদন্ত কমিটিকে টাকা দিয়ে সময়ক্ষেপন করে ইয়াছিনের পক্ষে কাজ করেছে এবং ইয়াছিন ফেনী ব্যবসায়ী সমিতির কর্মকর্তা হওয়ার পরও তার নামে ফেনী সদর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি অরো একটি নতুন সমিতির অনুমোদন করিয়ে দিয়েছে। যাহা সমবায় আইনের পরিপন্থি। আবদুল মতিন বলেন তার বিরুদ্ধে শুধু টাকা অত্মসাত করেছে এমন অভিযোগ নয় ইয়াছিন আরাফাত ২০১৪ সালে সরকার উৎখাতের সড়যন্ত্রে অর্থ যোগানের প্রমান রয়েছে। আমরা তদন্ত কমিটির কাছে সে সকল রশিদ পত্রও জমা দিয়েছি।

অভিযুক্ত ইয়াছিন অরাফাত জানান এ দেশে অনেকেই সমিতি করে টাকা নিয়ে যায়। তিনি টাকা নিয়েছেন টাকা ফেরত দিয়ে দিবেন। ইতি মধ্যে স্থানীয় একটি পত্রিকায় আমানত কারীদের বই নিয়ে তার সাথে সাক্ষাতের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। সমিতির টাকা মার্কেট ক্রয়ের বিষয়ে বলে এ টাকা সমিতির সদ্যদেরকে পর্যায় ক্রমে ফেরত দেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির নিয়ন্ত্রক ও অর্থ লেনদেন করার অভিযোগে অভিযুক্ত মনসুর জানান ইয়াছিন আরাফাত আমার বন্ধু মানুষ সে সহযোগিতা চেয়েছে তাই সাথে ছিলাম। তদন্ত কমিটির প্রধান নুরুল মোস্তফার সাথে দফায় দফায় যোগাযোগ করা হলেও তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এদিকে ফেনী জেলা সমবায় সমিতি অফিসের সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন বুলবুল জানান তিনি বিষয়টি নিয়ে জেলা সমবায় কর্মকর্তার সাথে কয়েক বার বৈঠক করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও তদন্ত কমিটিকে মনসুরের অবৈধ হস্তক্ষেপে থেকে মুক্ত রাখতে অনুরোধ করেছি। মনসুর পরশুরামে কর্মস্থল হলেও জেলা সমবায় অফিসের সকল অপকর্মের মূল নায়ক সে। জেলার দুই সিনিয়ার আইনজীবী অ্যডভোকেট কামরুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম নান্টু জানান সমিতির টাকায় চুক্তিপত্র করা সম্পদ ব্যক্তি মালিকানায় ছাপ কবলা করা এটি ফৌজদারী অপরাধের সামিল।