আজ

  • মঙ্গলবার
  • ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কঠোর শাস্তি না হওয়ায় অপরাধে জড়াচ্ছে পুলিশ

আপডেট : সেপ্টেম্বর, ১৭, ২০১৮, ৬:১৪ অপরাহ্ণ

>>>সালাহ উদ্দিন মজুমদার

কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় অপরাধে জড়াচ্ছে পুলিশ সদস্যরা। মাদক নির্মূলের দায়িত্ব পালনকারী বাহিনীর সদস্যরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় মাদকের বিস্তার রোধও হচ্ছে না। এতে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

আবার মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের নেয়া জিরো টলারেন্স নীতির সফলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, সারা দেশে পুলিশের ৩৮৮ সদস্য মাদকের সঙ্গে জড়িত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক নির্মূলের দায়িত্বে থাকা বাহিনীর সদস্যরা মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে সমাজকে মাদক মুক্ত করা অসম্ভব। তাই প্রথমেই শর্ষের ভূত তাড়াতে হবে। জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

পুলিশ সদর দফতরের তথ্যমতে, সারা দেশে পুলিশের ৩৮৮ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, বিক্রি ও পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে পুলিশ প্রশাসন। তদন্ত শেষে অনেকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।

চাকুরিচ্যুতসহ নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি মনিরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত অনেক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সাবেক আইজিপি নুর মোহাম্মদ  বলেন, অপরাধ দমন করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এসব তথ্য জেনেও অনেক সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কোনো ব্যবস্থা নেন না। শুরুতে কঠোর বার্তা দেয়া হলে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হলে অন্যরা সতর্ক হতো।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের কোনো সদস্য অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তার পক্ষে রাজনৈতিক অনেক তদবির আসে। এসব তদবিরের কারণে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া সম্ভব হয় না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় অনেকে অপরাধে জড়ানোর সাহস পায়।

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার রেদোয়ান পেট্রোল পাম্পের সামনে ১ সেপ্টেম্বর ফার্নিচার বোঝাই ট্রাকে অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে র‌্যাব। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় পুলিশের এসআই বদরুদ্দোজা মাহমুদকে গ্রেফতার করে খুলশী থানা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে বদরুদ্দোজা ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার বিরুদ্ধে মিরসরাই থানায় মাদকের মামলা হয়। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

খুলশী থানার ওসি শেখ নাসির উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, বদরুদ্দোজার মামলার তদন্ত করছে মিরসরাই থানা পুলিশ। মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মিরসরাই থানার ওসি জাহিদুল কবির বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, দু’দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্তাধীন বিষয়ে এখন কিছু বলা যাবে না।

মার্চে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই সোহরাওয়ার্দী রুবেলের কাছ থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও তিন পুলিশ সদস্যের নাম আসে। চারজনের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।

মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টিও তারা স্বীকার করেছে। নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি কামরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এই মামলা তদন্ত শেষ পর্যায়ে। খুব দ্রুতই তাদের অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়া হবে।

জড়িত অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না : মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে অনেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলেও আবার কারও কারও ক্ষেত্রে ভিন্নচিত্র দেখা যায়। কক্সবাজারে উদ্ধার হওয়া ১০ লাখ পিস ইয়াবা বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগে ওঠে এসপিসহ ১২ সদস্যের বিরুদ্ধে।

পুলিশ সদর দফতরের গঠিত কমিটির তদন্তে ওই ঘটনার সত্যতাও মিলেছে। তবে এসপিসহ ১২ জনকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ প্রশাসন। এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি সোহেল রানা যুগান্তরকে বলেন, প্রতিবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।