আজ

  • মঙ্গলবার
  • ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সোহেলের ওষুধ নিতে দেয়নি, আইনজীবীদেরও গ্রেফতার

আপডেট : সেপ্টেম্বর, ১৯, ২০১৮, ৪:১১ অপরাহ্ণ

সালাহ্উদ্দিন মজুমদার>>>

বর্তমান সরকার এতোটাই হিংস্র যে গ্রেফতারকৃত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের ওষুধ পর্যন্ত ভেতরে নিতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, ’গতকাল হাবিব উন নবী খান সোহেলকে গ্রেফতারের পর ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হলে কয়েকজন আইনজীবীসহ নেতাকর্মীরা তাকে সেখানে দেখতে যায়। সেখান থেকে পুলিশ কয়েকজন আইনজীবীসহ বেশকিছু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। বর্তমান সরকার ও সরকারের আজ্ঞাবহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কতটা হিংস্র অমানবিক ও হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হতে পারে যে, রাতে সোহেলের ওষুধ পর্যন্ত ভেতরে নিতে দেয়া হয়নি।’

বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, ’গতকালও বানোয়াট ও অসত্য মামলা দেয়া হয়েছে, আসামি করা হয়েছে ৪৩২ জনকে। গ্রেফতার করা হয়েছে হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ দেশব্যাপী ৯৩ জন নেতাকর্মীকে। এখন পান থেকে চুন না খসলেও শুধুমাত্র অজানা ভয়ে সরকারের পুলিশবাহিনী নির্বিচারে গ্রেফতার করে। আসলে আগামী নির্বাচন নিয়ে নেপথ্যলোকের বার্তাই হচ্ছে একতরফা নির্বাচন। আর সেজন্যই দেশব্যাপী বিএনপির নেতাকর্মীদের ছেঁকে তুলতে বিশাল জাল বিস্তার করা হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো আতঙ্কের নীরবতার আড়ালে জনগণের সোচ্চার উচ্চারণ সংগঠিত হচ্ছে। আর এই আওয়াজ হিংসা ও গণতন্ত্র বিনাশকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে বিজয় না হওয়া পর্যন্ত চলতেই থাকবে।’

ভোটারবিহীন সরকার নিজস্ব ভঙ্গিতে একটা অভিনব নির্বাচন করতে চাচ্ছে এমন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ’নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা হবে, মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রত্যাহার এমনকি ভোটগ্রহণের দিনও এসে পড়বে, শুধু ভোটকেন্দ্রে ভোটার থাকবে না। আর বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের থাকতে হবে কারাগারে অথবা পলাতক হয়ে। তাই বর্তমান অবৈধ সরকার সব কাজ বাদ দিয়ে এখন একটা কাজই করছে, তাহলো দেশজুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের গণমামলা ও গণগ্রেফতার।’

বিএনপির এই মুখপাত্র অভিযোগ করে বলেন, ’বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সেবা দিতে নানাভাবে বাধা দিচ্ছে সরকার। দেশনেত্রীকে আগে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি দিতেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের একজন সিনিয়র অভিজ্ঞ থেরাপিস্ট। পরে তাকে পরিবর্তন করে সরকারদলীয় মনোভাবাপন্ন একজন নতুন অনভিজ্ঞ থেরাপিস্টকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যা রহস্যজনক।’

তিনি বলেন, ’উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মেডিকেল বোর্ডে রাখা হয়নি। এজন্যই আমরা দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত।’

রিজভী আরও বলেন, ’বিএনপি চেয়ারপারসন গুরুতর অসুস্থ হলেও এখনও তাঁর পছন্দ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি কিংবা সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে প্রমাণিত হয়-সরকার বেগম খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে কোন গভীর চক্রান্ত চালাচ্ছে।’

বির্তকিত ইভিএম কেনার প্রকল্প অনুমোদন দেয়ার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ’তাড়াহুড়া করে ৩৮২৫ কোটি টাকার এ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে হরিলুটের সরকার আওয়ামী জোট সরকার। ব্রিজ, কালভার্ট, সড়ক-মহাসড়ক, উড়াল সেতুর নির্মাণে মাত্রাতিরিক্ত ব্যয়বৃদ্ধি করে জনগণের টাকা লোপাট করে যাচ্ছে তারা। অবৈধ সরকার দলীয় লোকদের আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বানাতে রাষ্ট্রীয় অর্থ ভাণ্ডার ডাকাতির সুযোগ করে দিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর হাওলাদার, এস এম জাহিদুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।