আজ

  • শুক্রবার
  • ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের সন্তানকে হত্যা মেরেছেন মা

আপডেট : সেপ্টেম্বর, ২৪, ২০১৮, ১০:৩২ অপরাহ্ণ


স্টাফ রিপোর্টার>>> রাসেল
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের সন্তানকে হত্যা করে করছেন মা কিন্তু শেষ রেহাই হলো না গর্ভধারীনীর। শেষ পর্যন্ত নিজেই নিজের জালে ধরা পড়লেন মা মেহেরা আক্তার। নিহত জনি মিয়াকে (১১) চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।
নেত্রকোণা কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের এ ঘটনা ঘটে। নিহত জনি গগডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশনা করে। শনিবার একদিনের রিমান্ড শেষে রোববার আদালত পাষণ্ড মা মেহেরা আক্তারকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরকীয়া কারণে জনি মিয়াকে (১১) হত্যার পরিকল্পনা করে তার মা মেহেরা আক্তার। মেহেরার সঙ্গে পরকিয়ার অভিযোগে আটক একই গ্রামের তমিজ উদ্দিন ফকিরের (তমু ফকির) ছেলে সবুজ মিয়াকে গ্রেফতার করা হলে সবুজ মিয়া পুলিশ ও আদালতের কাছে স্কুল ছাত্র জনিকে হত্যার পরিকল্পনা ও হত্যার পর বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে রাখার ঘটনা স্বীকার করে। সবুজ মিয়া পুলিশ ও আদালতকে জানান, শত্রুতার জন্য প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মেহেরা তার নিজের সন্তানকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং হত্যার পর তার মরদেহ গুম করার জন্য পুকুরের পানিতে বস্তাবন্দি করে ফেলে রাখার পরিকল্পনা করে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানা পুলিশের এস আই ছামেদুল হক। ছামেদুল হক জানান, জনিকে হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ৪ সেপ্টেম্বর জনির মা মেহেরা কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর কথা বলে জনিকে কীটনাশক পান করায়। এরপর স্কুল ছাত্র জনি ২/৩ দিন বমি করে এবং শারীরিকভাবে অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তার মৃত্যু না হওয়ায় শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নীরবে তার মা মেহেরা অপর সহযোগীদের নিয়ে পুকুরে গিয়ে জনিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে রাতে সবুজ, সনতু ও মেহেরা তিনজনে মিলে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে রাখে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, সবুজ মিয়া পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার পরিকল্পনা, হত্যার ঘটনা এবং হত্যার পর বস্তাবন্দি করার সময় নিজের জড়িত থাকার কথা পুলিশ ও আদালতের কাছে স্বীকার করেন। তার দেয়া জবানবন্দিতে একই গ্রামের সনতু মিয়া ও জনির মা মেহেরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জনি হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জনির মা মেহেরাসহ তার অপর দুই সহযোগী সবুজ ও সনতুকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এস আই ছামেদুল হক জানান, মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।