আজ

  • বুধবার
  • ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় জাবিতে ছাত্রলীগেরা পেটালেন সাংবাদিক

আপডেট : সেপ্টেম্বর, ২৫, ২০১৮, ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ


সালাহ্উদ্দিন মজুমদার>>>
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে ছিনতাইয়ের সময় বাধা দেয়ায় সেখানে কর্মরত চ্যানেল আই ও চ্যানেল আই অনলাইন প্রতিনিধি মাহমুদুল হক সোহাগকে বেধড়ক মারধর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী
ওই সময় সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদ করতে গিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন সাংবাদিকতা বিভাগের এক ছাত্রীসহ দুইজন।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সামনে এ মারধরের ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার সোহাগ জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ৪৩তম আবর্তন ও শহীদ সালাম-বরকত হলের আবাসিক ছাত্র।

তিনি জানান, ছিনতাইয়ে বাধা দেয়ায় তার উপর নেজামউদ্দিন নিলয় (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব, ৪২ ব্যাচ), রাফিউল সিকদার আপন (লোক প্রশাসন বিভাগ, ৪৭ ব্যাচ), সোহেল রানা (লোক প্রশাসন বিভাগ, ৪৭ ব্যাচ), শুভাশিস শুভ (বাংলা ৪৫ ব্যাচ) হামলা চালায়।

‘তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলের অনুসারী এবং রফিক-জব্বার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। আসন্ন হল কমিটিতে নেজামউদ্দিন নিলয় সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী।’ জানান সোহাগ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুল সংলগ্ন এলাকায় ঘুরতে আসেন দুই বহিরাগত। সে সময় সাংবাদিক মাহমুদুল হক সোহাগ ও কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে অবস্থান করছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক-জব্বার হলের কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী সুইমিংপুলে গিয়ে বহিরাগত দুই জনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মারধর এবং তাদের কাছে থাকা মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালান।

এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করে মাহমুদুল হক শিক্ষার্থীদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা সবাই লোক প্রশাসন বিভাগের ৪৭ ব্যাচের ছাত্র এবং শহীদ রফিক-জব্বার হলের ছাত্রলীগ কর্মী বলে পরিচয় দেন।
এ সময় মাহমুদুল হক তার পরিচয় দিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের হাত থেকে বহিরাগত দুইজনকে রক্ষা করেন এবং তাদেরকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন।
পরে বহিরাগত ওই দুইজন শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সামনে আসলে পুনরায় তাদের আটক করে লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করতে থাকে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এতে বাধা দিলে ছাত্রলীগ কর্মী রাফিউল সিকদার আপন ফোন করে ছাত্রলীগ নেতা নেজামউদ্দিন নিলয়কে ডেকে আনেন।

এরপর নিলয় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তার মদদে ছাত্রলীগ কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মাহমুদুল হককে বেধড়ক কিল-ঘুষি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে পাশের ঝোপে ফেলে দেয়। মাহমুদুল হককে রক্ষা করতে তার বিভাগের একজন ছাত্রী এগিয়ে আসলে তাকেও বেধড়ক মারধর ও শারীরিক লাঞ্ছনা করেন।

খবর পেয়ে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন।
এ ঘটনায় তারা প্রক্টর ও উপাচার্য বরাবর মৌখিক ও লিখিত অভিযোগপত্র দিয়েছেন।

প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন সাংবাদিকদের বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে তারা কোনোভাবেই এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত হতে পারে না। এরা কুলাঙ্গার।

‘ঘটনার অভিযোগ পেয়েছি। এর সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে সাময়িক বহিষ্কার করা হবে। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, আমার জানা মতে মারধরকারীরা ছাত্রলীগের কেউ নয়। তবে অভিযুক্তদের কেউ ছাত্রলীগকর্মী হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।