আজ

  • বুধবার
  • ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট : সেপ্টেম্বর, ২৮, ২০১৮, ১২:০৬ অপরাহ্ণ


স্টাফ রিপোর্টার>>>ওমর আলম
চট্টগ্রামের নবসৃষ্ট কর্ণফুলী উপজেলায় আধিপত্য নিয়ে বুধবার রাতে এক ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নিহতের নাম মোহাম্মদ মামুন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। বুধবার রাত ১০টার দিকে কর্ণফুলী উপজেলার শাহমীরপুর এলাকায় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। ওই ঘটনায় আবদুল আজিজ (২৪) নামের আরও এক ছাত্রলীগ নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর দু’ছাত্রলীগ নেতাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার মামুনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যজন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এদিকে মামুনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতা ওয়াসিম আহমেদ মারুফ গ্রুপের দুই সদস্য শাহিনুর ও আশিককে বুধবার দুপুরে চড়থাপ্পড় দেন ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ মামুন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতে মামুনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নিহত মামুন বড়উঠান ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহেরের ছেলে। আহত ছাত্রলীগ নেতা আবদুল আজিজ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ মুছার ছেলে। মামুন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি একটি সমাবেশে যোগদান করেন। ওই সমাবেশে মারুফ গ্র“পের সদস্যরা নিহত মামুনের সঙ্গে না গিয়ে আলাদাভাবে যোগ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হন মামুন। এ কারণে মামুন বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রথমে শানিহনুরকে চড়থাপ্পড় দেন। পরে দেড়টার দিকে একইভাবে আশিককে চড়থাপ্পড় দেন। সে সময় মামুনের হাত কেটে নেয়ার হুমকি দেয় আশিক । পরে রাত ৮টার দিকে মামুন ও আজিজ বাড়ির সামনের রাস্তায় বসে আড্ডা দেয়ার সময় শাহিনুর ও আশিকের নেতৃত্বে ৭-৮ সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালিয়ে মামুন ও আজিজকে কুপিয়ে একটি বিলে ফেলে দেয়। মামুনের একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে হামলাকারীরা। পরে লোকজন তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে মামুনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহত মামুনের ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার আত্মীয়স্বজনের আর্তনাদে ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ। বিকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মামুনের লাশ দাফন করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আজিজ ঘটনায় জড়িতদের নাম-ঠিকানা পুলিশের কাছে জানিয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা হাসপাতালে ব্যস্ত থাকায় এখনও মামলা দায়ের করতে পারেননি। রাতে মামলা দায়েরের কথা রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, কর্ণফুলীতে এখন পাড়ায় পাড়ায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রুপিং চলছে। গ্রুপিংয়ের শিকার হয়েছেন মামুন ও আবদুল আজিজ। কর্ণফুলী থানাধীন শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সুজন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা নেশাগ্রস্ত। তবে মাদকসংক্রান্ত কারণে মামুন খুন হয়নি। সে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুন হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। ওই ঘটনায় ৭-৮ জন জড়িত ছিল। তবে নেতৃত্বে দিয়েছে শাহিনুর ও আশিক। কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর মাহমুদ বলেন, শাহমীরপুর এলাকায় কুপিয়ে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অন্তর্কোন্দলের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। ওই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।