আজ

  • রবিবার
  • ২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পরশুরাম বাউরখুমা আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘরগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে

আপডেট : অক্টোবর, ১৫, ২০১৮, ১:২০ অপরাহ্ণ


স্টাফ রিপোর্টার>>>সোলেয়মান মাহদী
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বাউরখুমা (বিলোনিয়া) আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আশ্রয়ণের ঘরের বেশিরভাগ ছাউনি, বেড়া, দরজা, জানালাসহ ঘরের সবকিছু নষ্ট হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
জানা গেছে, পৌর এলাকার বাউরখুমা মৌজার চার একর ৮০ শতক জমিতে সরকার ২০০০-২০০১ অর্থবছরে এ আশ্রয়ণ নির্মাণ করে। ২০০০ সালের ২২ জুলাই আশ্রয়ণ প্রকল্পটি উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে মেরামত না করায় ঘরগুলো বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিটি ঘরের দরজা, জানালা, সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। জরাজীর্ণ ঘরে চালে পলিথিন দিয়ে মেরামত করে কোনোমতে চলছে বসবাস করছে। এছাড়া তিনটি নলকূপ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। টয়লেটগুলো নষ্ট হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।
ভূমিহীন হাছিনা আক্তারকে ওই আশ্রয়ণে একটি ঘর বরাদ্দ দেন স্থানীয় প্রশাসন। গত ১৮ বছর যাবৎ হাছিনা আক্তার সেখানে বসবাস করছেন। তার স্বামী মারা যাবার পর থেকে তিন ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন। তিনি জানান, আশ্রয়ণের ঘর নির্মাণের পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো মেরামত করা হয়নি। বর্তমানে তারা উপরে পলিথিন দিয়ে কোনো মতে বসবাস করছেন।
এ আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করছে ৬০ পরিবার। তাদের বেশিরভাগ ঘরের চালের ওপর ও নিচে নিজ খরচে পলিথিন দিয়ে বসবাস করছে। আবদুল জলিল ও আবদুল হান্নানসহ ভুক্তভোগীরা জানান, সরকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ২০০০ সালে ৬০টি পরিবারকে একটি করে ঘর বরাদ্ধ দেয়। ঘর বরাদ্ধ দেওয়া সময় আশ্রয়ণ প্রকল্পে নলকূপ ও স্বাস্থাসম্মত স্যানিটেশেন ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন আমাদের বসবাস করা ঘর, নলকূপ ও স্যানিটেশনগুলো মেরামত না করায় এগুলো ব্যবহার করার অনপুযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া ২০০০ সালের পর থেকে সরকারি কোনো বরাদ্দ পাননি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আবদুল মান্নান লিটন জানান আশ্রয়ণ প্রকল্পের সবগুলো ঘরই বসবাসের অনুপযোগী। জরাজীর্ণ ঘরগুলোর দ্রুত মেরামত প্রয়োজন।
পুনর্বাসিত পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন উৎপাদনমুখী ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহারিক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তেমন কোনো সুফল দেখা যায়নি। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের মধ্যে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করার কথা থাকলেও বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা গেছে উপজেলা সমবায় অফিস ছয় লাখ টাকা বিতরণ করেছে। কিন্তু ওই টাকা সুদসহ দ্বিগুণ হওয়ায় অনেক সদস্য পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পরশুরাম উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মিলন কান্তি জানান, তাদের একবারই ছয় লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে তার পর থেকে আর কোনো ঋণ দেওয়া হয়নি।
পরশুরাম পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল জানান, তাদের নিয়মিতভাবে ভিজিএফসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর আগে আশ্রয়ণের একটি বেরাক পুড়ে যাওয়ায় ব্যক্তিগত তহবিল থেকে মেরামত করে দিয়েছেন তিনি। তবে আশ্রয়ণের ঘরগুলো বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।