আজ

  • বৃহস্পতিবার
  • ২রা জুলাই, ২০২০ ইং
  • ১৮ই আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন

আপডেট : অক্টোবর, ১৯, ২০১৮, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ


সালাহ্উদ্দিন মজুমদার>>>>
আগামী নির্বাচনে কোনো ‘পর্যবেক্ষক মিশন’ পাঠাবে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। নির্বাচন কমিশনকে দু’দফায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ইইউ। তবে নভেম্বরে দুই সদস্যের একটি নির্বাচন বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে পাঠাতে সম্মত হয়েছে তারা। ওই দলটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সব কর্তৃপক্ষ, বিচার বিভাগ, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবে। বাংলাদেশে অবস্থানকালে রাজনৈতিক পরিবেশ এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির সার্বিক বিষয় নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করবেন। এর আগে নির্বাচন কমিশন ইইউকে পর্যবেক্ষক পাঠাতে অনুরোধ করেছিল। বৃহস্পতিবার ইসি সচিবালয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকেও পর্যবেক্ষক না পাঠানোর বিষয়টি পুনরায় জানিয়েছে ইইউ প্রতিনিধি দল। তারা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থিত বাংলাদেশ এম্বাসিকে দুই পৃষ্ঠার এক চিঠিতেও (নোট ভারবাল) বিষয়টি জানায়। তবে কেন তারা পর্যবেক্ষক পাঠাবে না সে বিষয়ে সরাসরি বা চিঠিতে কিছু উল্লেখ করেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষক মিশন না পাঠানোর সিদ্ধান্তকে বড় করে দেখছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জোরাজুরি করে তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আনার পক্ষেও নয় কমিশন। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি পর্যবেক্ষক টিম না পাঠায় সেটা তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এতে আমাদের কি করার আছে। কেউ যদি পর্যবেক্ষক হয়ে আসতে চায় তাহলে আমাদের নিয়ম-কানুন মানতে হবে, আমরা তাদের স্বাগত জানাব। তিনি বলেন, সিইসি তার চিঠিতে আগামী সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানানোর কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু জোরাজুরি করে তাদের নিয়ে আসব না। এ কমিশনার জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নোট ভারবালটি বাংলাদেশের এম্বাসিকে দিয়েছে। তার অনুলিপি নির্বাচন কমিশনারদেরও দিয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন জানিয়েছেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। ইইউ প্রতিনিধি দলকে এ তথ্য জানিয়েছে ইসি। বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান সচিব। অপরদিক বৈঠক শেষে ইইউ রাষ্ট্রদূত রেনসে তেরিং সাংবাদিকদের বলেন, ইইউ বিশ্বাসযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন চায়। তারা আশা করেন, সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে। সব দলের অংশগ্রহণ নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, ইইউ নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের শেষে নির্বাচনী বিষয়ে বিশেষজ্ঞ একটি ছোট দল বাংলাদেশে পাঠাবে। তারা কয়েক সপ্তাহ থাকবে। এই দলটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করবে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ইইউসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোকে একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দিয়েছিল। ওই চিঠিতে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। বিএনপিসহ বেশির ভাগ দলের বর্জনের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে কোনো পর্যবেক্ষক টিম পাঠায়নি ইইউ। ওই সময়ে ইইউর একটি নির্বাচন বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নির্বাচনের আগেই চলে গিয়েছিল। তবে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইইউর শতাধিক পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে এসেছিলেন।

সূত্র জানায়, এদিকে বৃহস্পতিবার ইসির সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন সংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছে ইইউ। আগামী সংসদ নির্বাচনে কমিশনের প্রস্তুতি, সক্ষমতা, ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চায়। ইসি প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। নভেম্বরের প্রথমদিকে তফসিল ঘোষণা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভোট গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতাও রয়েছে। বিগত দিনেও একইদিনে সফলভাবে ভোট গ্রহণ করেছে।

বৈঠক শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন সাংবাদিকদের আরও বলেন, ইইউর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হয়, তারা সে আহ্বান জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন তাদের আশ্বস্ত করেছে যে, আইনের মধ্যে থেকে নির্বাচন কমিশনের যতটুকু ক্ষমতা রয়েছে তারা সে ক্ষমতা প্রয়োগ করে অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন করবে।

সচিব বলেন, ইইউ জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চেয়েছে। ইসি বলেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে স্বল্পপরিসরে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। আইনি ভিত্তি পেলে সংসদ নির্বাচনে দৈবচয়নের ভিত্তিতে স্বল্পপরিসরে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া ইইউ প্রতিনিধিরা নির্বাচন পর্যবেক্ষক, জনবল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রবাসীদের ভোট দেয়ার প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে।

অপরদিকে ইইউ রাষ্ট্রদূত রেনসে তেরিং বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ১০ কোটি ৪০ লাখ ভোটার রয়েছে, যা বিশ্বের খুব কম দেশেই রয়েছে। তারা একই দিনে ভোট দেবেন। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। যদিও এত বড় ভোটারদের নিয়ে ভোট এই প্রথম হচ্ছে না। ফলে এবারের বাংলাদেশে নির্বাচন ইইউর আগ্রহের বিষয়। বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক এবং স্বচ্ছ নির্বাচন দেখতে চায় ইইউ। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আশা করি সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। আশা করি এটি খুবই প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, সেই সঙ্গে আশা করি সব ভোটার ভোট দিতে আসবেন। আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নারী ভোটারদের নিয়েও আলোচনা করেছি। আমাদের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে নারী ভোটারদের ভোট দিতে আসা নিয়ে। এখানে আমরা লিঙ্গ সমতায় জোর দিচ্ছি। আমাদের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে, বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তবে আমরা বিষয়গুলোতে ক্রমাগত দৃষ্টি রাখব শেষ পর্যন্ত কি হয়।

বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, সচিব হেলালুদ্দীন অংশ নেন। অপরদিকে ইইউ রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে ব্রিটেন, স্পেন, সুইডেন, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।