আজ

  • শনিবার
  • ৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং
  • ২০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শীর্ষ ঋণখেলাপি এস এ গ্রুপ এর চেয়ারম্যান গ্রেফতার

আপডেট : অক্টোবর, ১৯, ২০১৮, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ


অফিস ডেস্ক>>>>
এসএ গ্রুপের চেয়ারম্যান এম শাহাবুদ্দিন আলমকে ঋণ জালিয়াতির মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে বুধবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।

চট্টগ্রাম ইপিজেড থানায় করা ব্যাংক এশিয়ার একটি জালিয়াতি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম।

এদিকে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে প্রকাশিত শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপির তালিকায় তার গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠান এসএ অয়েল রিফাইনারি লিমিটেডের নাম ৭২ নম্বরে রয়েছে। সে হিসাবে তিনি একজন শীর্ষ খেলাপি।

একজন খেলাপি ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার বিধান না থাকলেও আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে তিনি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালক হয়েছেন। একই সঙ্গে গ্রুপের মালিকানাধীন এসএ অয়েল রিফাইনারি ও সামান্নাজ সুপার অয়েল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও (এমডি) দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

এ দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রাইম ব্যাংকের সুদাসলে বকেয়া পাওনা প্রায় ৮৪ কোটি টাকা, যা বর্তমানে ক্ষতিজনক মানে খেলাপি। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো খেলাপি ব্যক্তি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হতে পারেন না।

সম্প্রতি খেলাপি ঋণের টাকা আদায়ে সহায়তা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নোটিশের মাধ্যমে নালিশ করেছে ভুক্তভোগী প্রাইম ব্যাংক। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি।
গ্রেফতারের পর শাহাবুদ্দিন আলমকে আদালতে হাজির করেন সিআইডির ইকোনমি ক্রাইম স্কোয়াডের পরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম। আদালতে হাজির করলে ঢাকা মহানগর হাকিম শারাফুজ্জামান আনসারী তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এসআই আশরাফুল আলম বলেন, ব্যাংক এশিয়ায় এলসি খুলে অফিসারের সই জাল করে ২৭ কোটি টাকার তেল বিক্রি করেন এমডি শাহাবুদ্দিন। তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হবে। রিমান্ডে নিলে আরও তথ্য পাওয়া যাবে। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১২০টি মামলা রয়েছে।

সূত্র জানায়, এসএ গ্রুপের শাহাবুদ্দিন আলম বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন সময়ে বিপুল পরিমাণ ঋণ সুবিধা গ্রহণ করেন। তার মোট ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ৬২২ কোটি ৪৮ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯ টাকা।

এর মধ্যে চট্টগ্রামের ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের সিডিএ এভিনিউ শাখা থেকে ৭০৯ কোটি ২৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন তিনি।

এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ৯৪০ কোটি ১০ লাখ ৫১ হাজার, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ৩৬ কোটি ১১ লাখ ৪১ হাজার, ন্যাশনাল ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ৭০১ কোটি ৪৯ লাখ ৩১ হাজার, পূবালী ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ২৯৭ কোটি ১১ লাখ ৪৮ হাজার, কৃষি ব্যাংকের ষোলোশহর শাখা থেকে ১৭৯ কোটি ৬৮ লাখ ৩৭ হাজার, অগ্রণী ব্যাংক কর্পোরেট শাখা থেকে ৫৪৮ কোটি ৪৪ লাখ, জনতা ব্যাংক শেখ মুজিব রোড কর্পোরেট শাখা থেকে ১১৮ কোটি ২২ লাখ ৭১ হাজার ও প্রাইম ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ৫৫ কোটি ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন শাহাবুদ্দিন আলম। এসব ঋণ সুদাসলে এখন অনেক বেড়ে গেছে।

এছাড়া ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজের নুরুল আমিন লাবলুর কাছ থেকে ১০ কোটি ও মেওয়া অয়েল অ্যান্ড ফ্যাডস থেকে ২৬ কোটি ৭৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন তিনি। এসব ঋণ আর পরিশোধ করেননি।