আজ

  • বুধবার
  • ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

লাখ টাকা পুরস্কার পেলেন নুসরাতকে বাঁচানোর চেষ্টাকারী কনস্টেবল রাসেল

আপডেট : জুন, ২, ২০১৯, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ


স্টাফ রিপোর্টার>>>ওমর আলম
সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা পুলিশ সদস্য মো. রাসেলকে সাহসিকতার জন্য পুরস্কৃত করেছে জেলা পুলিশ। শনিবার ১ জুন ফেনীর পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান পুরস্কার হিসেবে কনস্টেবল রাসেলের হাতে নগদ এক লাখ টাকা তুলে দেন। পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পুলিশ সদর দফতর থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে পুলিশ কনস্টেবল রাসেলের প্রশংসা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে গত ৬ এপ্রিল কোলে করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কনস্টেবল রাসেল সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। দগ্ধ নুসরাতকে কোলে করে নেওয়ার সময় তার হাত পুড়ে যায়। রাসেলের গৃহীত পদক্ষেপে দ্রুত নুসরাতকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়। না হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হতো। কনস্টেবল রাসেলের এ পদক্ষেপ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। তাই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটির সদস্যদের চোখে নুসরাত হত্যাকাণ্ডে ফেনীর এসপিসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহেলা ও গাফিলতি প্রমাণ যেমন মিলেছে, তেমনি অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে গত ৬ এপ্রিল কোলে করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কনস্টেবল রাসেলের ভূমিকাও ছিল সাহসী। প্রতিবেদনে এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে পুরস্কৃত করার প্রস্তাব করা হয়। এ ঘটনায় আইজিপির নির্দেশেই গত ১৬ এপ্রিল পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (মিডিয়া) রুহুল আমিনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ তদন্ত টিমের অপর সদস্যরা হচ্ছেন সিআইডি চট্টগ্রাম রেঞ্জের একজন বিশেষ পুলিশ সুপার, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ সদর দফতরের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও একজন পরিদর্শক।

তদন্ত কমিটির প্রধান ডিআইজি এসএম রুহুল আমিন গত ৩০ এপ্রিল রাতে পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট শাখায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এই তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়। সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। অভিযুক্ত এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইউসুফকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে এবং এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইকবাল আহমদকে খাগড়াছড়ি জেলায় সংযুক্ত করা হয়।

প্রসঙ্গত, ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে যান নুসরাত। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ৪-৫ জন বোরকা পরিহিত ব্যক্তি শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে তার স্বজনরা প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত মারা যান। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাসহ আট জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আট আসামিসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একইসঙ্গে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছে।