আজ

  • বুধবার
  • ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফেনীর মুহুরীঘাটের বিলোনিয়া ইমিগ্রেশন চেক পোষ্টের পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ!

আপডেট : জুন, ১৮, ২০১৯, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ


স্টাফ রিপোর্টার>>>
ফেনীর পরশুরামে বিলোনিয়া ইমিগ্রেশন চেক পোষ্টে এক ভারতীয় যাত্রীকে হয়রানির অভিযোগে করেছেন ভারতীয় দুই নাগরিক।

বিলোনিয়ার মুহুরী ঘাট দিয়ে গত ২ জুন ভারতে যাওয়ার সময় তাদের কাছ থেকে ভারতীয় রুপি ২২ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবে বিলোনিয়া চেক পোষ্টের পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন নিয়ম অনুযায়ী সবকিছু করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে কোন টাকা আত্মসাত করা হয়নি। তাদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভারতীয় রুপি উদ্ধার করা  হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিক বিষয়টি ভারত সীমান্তের উপারে ভারতীয় কাস্টমস কর্মকর্তাদেরকে অবহিত করেন এবং বিলোনিয়া সাংবাদিক সম্মেলন করে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন চেক পোষ্টের দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা এস আই সুজায়েত আলি মাহমুদ এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। এতে ভারতীয় শুল্ক ষ্টেশনের কর্মকর্তা, ইমিগ্রেশন চেক পোষ্টের কর্মকর্তারা ফেনীর পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন। এই বিষয় একাধিক ভারতীয় গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ভারতের অংশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিলোনিয়া থেকে প্রকাশিত একাধিক দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে ভারতীর পশ্চিম বঙ্গের নদীয়া জেলার মদন পুরের নারায়ন দাস গত  ১মে তার স্ত্রী  স্বপ্না দাসকে নিয়ে পাসপোর্ট ও ভিসার মাধ্যমে  শ্বশুর বাড়ীতে যাবার উদ্যেশে বিলোনিয়ার মুহুরী ঘাট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এবং ২ জুন পুনরায় ভারতে চলে যান।
ভারতীয় গনমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়, ভারতে যাবার সময় ইমিগ্রেশন চেক পোষ্টের দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা তার কাছে থাকা ভারতীয় রুপি নিয়ে যাওয়া যাবেনা বলে ২২ হাজার ৫০০টাকা রেখে দেন। ওই ভারতীয় দম্পতি গত ২ জুন ভারতে গিয়ে বিষয়টি বিলোনিয়া প্রশাসন ও সাংবাদিকদের কাছে চেকপোষ্টে হয়রানির বিষয়টি তুলে ধরেন। এতে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা, ইমিগ্রেশন চেক পোষ্টের কর্মকর্তা ও বিএসএফের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং বাংলাদেশী যাত্রীদের হয়রানি শুরু করেন। বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে ভারতীয় পুলিশ কর্মকর্তারা ফেনীর পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন।
বিলোনিয়া ইমিগ্রেশন চেক পোষ্টের অফিস ইনচার্জ সুজায়েত আলি মাহমুদ জানান, ভারতীয় ওই যাত্রীদের দেহ তল্লাশী করে ৩০ হাজার ভারতীয় রুপি উদ্ধার করা হয়। সুজায়েত আলি জানান নিয়ম অনুযায়ী যাত্রীরা শুধুমাত্র ৫ হাজার ডলার নিতে পারবেন। তিনি জানান, ভারতীয় পুলিশ প্রশাসনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফেনীর পুলিশ সুপার তাকে ডেকে পাঠান, তিনি ফেনীর পুলিশ সুপারকে পুরো বিষয়টি অবহিত করেছেন।
বিলোনিয়া স্থলবন্দরের শুল্ক ষ্টেশানের দায়িত্বরত এস আই মো ইব্রাহিম খলিল জানান, টাকা রেখে দেওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন, তিনি জানান পুলিশ শুধুমাত্র পাসপোর্ট এবং ভিসার যাচাই-বাছাই করতে পারবে। কাউকে তল্লাশি কিংবা কোন যাত্রীকে সন্দেহ হলে বিজিবি, শুল্ক ষ্টেশান কর্মকর্তা, ইমিগ্রেশন পুলিশ যৌথভাবে টাস্কফোর্স গঠন করে তল্লাশি করার নিয়ম রয়েছে। ওইদিন ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের পুলিশ কর্মকর্তা সুজায়েত আলি মাহমুদ শুল্ক ষ্টেশানে কোন টাকা জমা দেয়নি বলে তিনি জানান।

যাত্রীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিলোনিয়া শুল্ক ষ্টেশান ও পুলিশ ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টে যাত্রীদেরকে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয়। গত রোববার সরেজমিন ইমিগ্রেশন চেক পোষ্ট ও শুল্ক ষ্টেশনে গিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা দাবির বিষয়টি এই প্রতিবেদকের কাছে হাতে নাতে ধরা পড়ে।