আজ

  • বৃহস্পতিবার
  • ১লা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আবরার হত্যা ৪ ছাত্রলীগ নেতাসহ আটক ৬

আপডেট : অক্টোবর, ১১, ২০১৯, ৫:০২ অপরাহ্ণ


স্টাফ রিপোর্টার>>>
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে (২১) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মোট ছয়জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদের মধ্যে চারজন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগ নেতা। বাকি দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আটককৃতরা হলেন- বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, তানভীরুল আবেদীন ইথান (১৬তম ব্যাচ) ও জিসান।
সোমবার বেলা ৩টার দিকে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার ও ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মেফতাহুল ইসলাম জিয়নকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) শেখ নাজমুল আলম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সকালে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান এবং সহ-সভাপতি ফুয়াদ হোসেনকে আটক করে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, বুয়েটের শেরেবাংলা হলের শিক্ষার্থী, সিসিটিভি ফুটেজ ও আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে।
সূত্র জানায়, ফাহাদকে জেরা ও পেটানোর সময় ওই কক্ষে অমিত সাহা, মুজতাবা রাফিদ, ইফতি মোশারফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই কক্ষে এসে দ্বিতীয় দফায় ফাহাদকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ কয়েকজন। তারা সবাই মেহেদী হাসান রাসেলের অনুসারী।
রোববার (৬ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢামেক ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মো. সোহেল মাহমুদ বলেন, বাঁশ বা স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানো হয়ে থাকতে পারে বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদকে। এর ফলেই রক্তক্ষরণ বা পেইনের (ব্যথা) কারণে ফাহাদের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, ফাহাদের হাতে, পায়ে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এই আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। আঘাতের ধরন দেখে মনে হয়েছে ভোঁতা কোনো জিনিস যেমন, বাঁশ বা স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তবে তার মাথায় কোনো আঘাত নেই। কপালে ছোট একটি কাটা চিহ্ন রয়েছে।

” বুয়েটের আবরার”
———————————–
আর কত কাল রক্ত দানে
পাব মোরা স্বাধীনতা,
লাশের মিছিল শেষ হবে কবে
বলে দাও হে “বিধাতা”।

দেশের তরে বলতে গেলে
হতে হয় যদি লাশ,
তাহলে তোর স্বাধীনতা
তুই জাদুঘরে রেখে আস।

কি অপরাধ করেছিল
ভাই ‘আবরার ফাহাদ’,
নর পিচাশ হায়নার দল
কেড়ে নিল তার বেচে থাকার অভিলাষ।

ছাত্র সমাজ এক হয়ে আজ
হয়েছে হুতাশন,
তারপরও কেন কাণ্ডজ্ঞানহীন
আমাদের প্রশাসন।

লাখ শহীদের কেনা জমি
মানবো না ভিন্নদেশীয় তাঁবেদারি,
যদি আরো লাগে তব হব বলী
দেব না কো এই প্রিয় জন্মভূমি।

মানবতা আজ হারিয়ে গেছে
তবু আশা ফুরায়নি কভু,
ক্ষমা করে দাও হে মালিক
তুমি ছাড়া নেই কোন প্রভু।।
—– “আরিফ হোসেন শাহিন”