আজ

  • শুক্রবার
  • ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সোনাগাজীতে শেষ হয়ে গেল রুহুল আমিনের অধ্যায়

আপডেট : অক্টোবর, ২৬, ২০১৯, ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ

সালাহ উদ্দিন মজুমদার>>>
দোর্দন্ড প্রতাপে চলতেন তিনি। সামনে-পেছনে সবসময় সাথে থাকত নিজস্ব ক্যাডাররা। কয়েক বছর ধরে দাবড়ে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে সোনাগাজীতে শেষ হয়ে গেল রুহুল আমিন অধ্যায়ের । বিচারক তাঁকে হত্যা পরিকল্পনায় অংশগ্রহন, জ্ঞাত থেকে সহায়তা এবং হত্যার পর আসামীদের বাঁচানোর চেষ্টার অপরাধে মৃত্যুদন্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে সাবেক আওয়ামীলীগ নেতা রুহুল আমিনের সহযোগিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বলে প্রচার চালান যে, নেতা অচিরেই জেল থেকে বের হতে পারবেন। তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বৃহস্পতিবারও তার অনুসারীরা ৪০ থেকে ৪৫ টি গাড়ি নিয়ে ফেনীর আদালত প্রাঙ্গণে আসেন এবং ভীড় জমান। তাদের প্রস্তুতি ছিল-রুহুল খালাস পেলে তাকে নিয়ে আনন্দ মিছিল নিয়ে গলায় ফুলের মালা দিয়ে সোনাগাজীতে নিয়ে যাবেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলনা তার।

আদালত সূত্র জানায়, মামলা বিচারে যাবার পর স্থানীয় আইনজীবিদের পাশাপাশি রাজধানী থেকে জেষ্ঠ্য আইনজীবি ফারুক আহাম্মদকে আনা হয় রুহুল আমিনের পক্ষে মামলা লড়তে। পরে শেষের দিকে এহসানুল হক সমাজী নামে আরেক জেষ্ঠ্য আইনজীবিও তার পক্ষে আইনী লড়াই করতে ফেনীতে আসেন। কিন্তু কিছুতেই কোন লাভ হলনা রুহুল আমিনের।

সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামীলীগের একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলার মধ্যম চরচান্দিয়ার কোরবান আলীর ছেলে রুহুল আমিন। পরিবারের প্রায় সকলেই বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। একসময় মধ্যপ্রাচ্যে ট্যাক্সি চালাতেন তিনি। কয়েক বছর আগে সোনাগাজীতে এসে ছাবের পাইলট হাই স্কুলের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৎকালীন স্বতন্ত্র সাংসদ রহিম উল্যাহর সাথে বিরোধে জড়িয়ে আওয়ামীলীগ নেতাদের নজরে আসেন এবং দলীয় নেতাদের সাথে চলতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে অনেকটা হঠাৎ করে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফয়েজ কবিরকে সরিয়ে জেলা নেতাদের সহায়তায় উপজেলা কমিটির প্রথমে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন ও পরে আরেক সভায় তাকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। এসময় সোনাগাজী পৌর কাউন্সিলর শেখ আব্দুল হালিম মামুনকে হটিয়ে সোনাগাজী ইসলামীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার পরিচালনা কমিটির প্রথমে সদস্য ও পরে সহ সভাপতি হন। একই সাথে টেন্ডারবাজি, বালু মহালে লুটপাট চালান ও মাদরাসাতেও নিজের আধিপত্য বাড়াতে থাকেন। তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজের সাথে দহরম-মহরম ছিল তার।

২৭ মার্চে নুসরাতের যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটলে প্রথমে সিরাজকে রক্ষার চেষ্টা করেন। তার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত একাধিক কর্মসূচিতে নেপথ্যে থেকে সহায়তা করেন। ছয় এপ্রিলের জঘন্য ঘটনার পর তিনি আসামীদের বাঁচাতে থানা-পুলিশ ম্যানেজের চেষ্টা করেন ও ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা চালান। এসব কাজে টাকাও খরচ করেন তিনি। ১১ এপ্রিল নুসরাতের জানাযায় অন্যদের সাথে অংশ নেন। তবে মামলার অন্যতম প্রধান আসামী শাহাদাত হোসেন শামীমের সাথে টেলিফোন কথোপকথনে রুহুলের ওই জঘন্য ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেলে উনিশ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। এদিকে গত ষোল অক্টোবর উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে রুহুলকে বাদ দিয়ে প্রবীন আওয়ামীলীগের নেতা অধ্যাপক মফিজুল হককে সভাপতি করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এতে আমরা কলঙ্কমুক্ত হলাম। তারা বলেন, অপরাধী যে বা যারাই হোন-তাদের আইনের আওতায় আসতে হয়, এ রায় সেটাই প্রমান করে।

উপজেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মফিজুল হক বলেন, আসলে আদালত রায় দিয়েছেন, আমরা এ বিষয়ে আর কি বলব ? আমাদের কিছু বলার নেই। আপনারাতো সবই জানেন।

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রহমান বিকম বলেন, আমরা ন্যায় বিচারে বিশ্বাসী। কে আওয়ামীলীগের নেতা সেটা বড় বিষয় নয়। আইনের চোখে যে অপরাধী তার শাস্তি হবে-এটাই বাস্তবতা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ বিচার বিভাগের শতভাগ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তিনি বলেন, রুহুল আমিন অপরাধী বলেই তার সাজা হয়েছে।