আজ

  • শুক্রবার
  • ১৪ই আগস্ট, ২০২০ ইং
  • ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রাজাপুরে মোবারক আলী জামে মসজিদের প্রকল্পের কাজ না করেই বিল তুলে নিলেন সভাপতি

আপডেট : জুলাই, ২৭, ২০২০, ৫:২০ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার>>>>আনোয়ার হোসেন

ফেনীর দাগনভূঁঞা উপজেলার রাজাপুর ইইউনিয়নে গনিপুর মোবারক আলী জামে মসজিদে শৌচাগার ও সেপটিক ট্যাংক নির্মানের জন্য সরকারী বরাদ্দকৃত প্রকল্পের তিন লাখ টাকার কাজ না করেই শতভাগ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে বলে, ভূয়া বিল ভাউচার জমা দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সে টাকা উত্তোলনও করা হয়, মসজিদ কমিটির সভাপতি ও ঠিকাদার মাহবুবুল হক এর বিরুদ্ধে কাজ না করেও সমুদয় টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ’র অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সরকার বিভাগ, মসজিদ পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয়রা জানায়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে মসজিদ মন্দির উন্নয়ন প্রকল্প থেকে উপজেলার রাজাপুর মোবারক আলী জামে মসজিদের উন্নয়ন কাজ তথা শৌচাগার ও সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের জন্য সরকারি ভাবে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মসজিদ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক কাজটি দরপত্রের মাধ্যমে অন্য একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ নেয়।

কিন্তু সরকারি বরাদ্দের টাকার বিষয়টি গোপন করে মসজিদের তহবিলে জমানো টাকা (দানের টাকা) দিয়ে মাহবুবুল হক শৌচাগার ও সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ শেষ করেন। পরে ওই কাজের ছবিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ভূয়া বিল ভাউচার জমা দিয়ে উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে গত মে মাসে সরকারি বরাদ্দকৃত তিন লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেন মসজিদ কমিটির সভাপতি মাহবুবুল হক । পরে সরকারী বরাদ্দের বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও মসজিদ কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তারা জানতে পারেন। প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সভাপতি মাহবুবুল হক প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন।

মোবারক আলী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন বলেন, মসজিদের শৌচাগার ও সেপটিক ট্যাংক নির্মানের জন্য সরকারি ভাবে বরাদ্দ তিন লাখ টাকার বিষয়টি সভাপতি ছাড়া আর কেউ জানতেন না। সভাপতিও কোন দিন এ বিষয়ে কিছুই বলেননি। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে সভাপতিকে মসজিদের ভেতরে লোকজন জিজ্ঞাসা করেন। তিনি কোন জবাব না দিয়ে এড়িয়ে যান। তিনি আরো বলেন, নির্মান কাজ ও আত্নসাৎ’র বিষয়টি জানতে গত কয়েকদিন আগে মসজিদের লোকজন উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলীর কাছে যান। পরে উপজেলা সহাকারী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন মসজিদের কাজ পরিদর্শনে যেয়ে আত্নসাৎ’র বিষয়টি সত্যতা পায়। উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলী সৌরভ দাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সহাকারী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেন।

এ সময় মসজিদ কমিটির সভাপতি মাহবুবুল হক মসজিদের জন্য সরকারি বরাদ্দের তিন লাখ টাকা উত্তোলন করার বিষয়টি স্বীকার করেন। সভাপতি আত্নসাৎকৃত টাকা গুলো ক্রমান্বয়ে ফেরত দিবেন বলে অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন। বৈঠকে আত্নসাৎকৃত সেই টাকা দিয়ে মসজিদের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়। এবিষয়ে মসজিদের সভাপতি মাহবুবুল হক জানান, আত্নসাৎ’র কোন ঘটনা ঘটেনি। প্রকল্পের অর্থ বরাদ্ধ পেতে হলে আগে কাজ শেষ করতে হয়। সেজন্য মসজিদের ফান্ড থেকে কাজ করা হয়েছে। পকল্পের তিন লাখ টাকা দিয়ে এখন সীমানা প্রাচীর নির্মান করা হবে।