আজ

  • বৃহস্পতিবার
  • ১লা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে দেড় কোটি টাকা আত্নসাত ও প্রতারণার মামলার আসামী জামাত নেতা শাহেদ কারাগারে

আপডেট : সেপ্টেম্বর, ১, ২০২০, ২:২৮ অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট:
ফেনী শহরে ব্যবসার নামে দেড় কোটি আত্নসাত মামলায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি জামাত নেতা ফখরুদ্দিন শাহেদ (৩2) কে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ঘটনাটি জানাজানি হলে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়। মামলার সুত্রে জানা গেছে,ফেনী শহরের মধ্যম চাড়িপুর এলাকার ফরাজী বাড়ির আবুল কালাম আজাদের ছেলে ফখরুদ্দিন শাহেদ ২০১১ সালে ৫০ এর অধিক সংখ্যক সদস্য নিয়ে ইউনিটেক ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন নামে একটি সমিতি গঠন করে ব্যবসা কার্যক্রম শুরু করে। পরিচালক ও শেয়ার হোল্ডার বানানোর কথা বলে বিভিন্ন সময়ে সমিতির সদস্যদের থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা বিনিয়োগ সংগ্রহ করে শাহেদ। ২০১৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর গোপনে ৩ জনের নামে ইউনিটেক ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড আর্কিটেক্ট নামে একটি ট্রেড লাইসেন্স নেয় শাহেদ।

বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা প্রতিবাদ করায় পরবর্তীতে ঠিক করে নেয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ব্যবসা কার্যক্রম চালিয়ে আসে প্রতারক শাহেদ। একপর্যায়ে তিনজনের নামে একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলে সু-কৌশলে প্রতিষ্ঠানের পুজি ও লভ্যাংশসহ প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্নসাত করে শাহেদ। টাকা আত্নসাতের বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য সদস্যরা চাপ প্রয়োগ করায় শাহেদ চক্রের উপস্থিতিতে ফেনীতে ২০১৮ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ দিন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩ টি নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প করে সকলের পাওনা পরিশোধ করে দেয়ার কথা থাকলেও আত্নগোপনে চলে যায় শাহেদ। এ নিয়ে মধ্যম চাঁড়িপুর সালিশ কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মানিকের নিকট অভিযোগ দেন আলাউদ্দিন সহ কয়েকজন পাওনাদার। ২০১৯ সালের ২০ জুলাই শাহেদের পিতাসহ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি সালিশি বৈঠক হয়। এতে শাহেদের কাছে ভুক্তভোগী আলাউদ্দিনসহ অন্যান্য পরিচালক ও শেয়ার হোল্ডারগনের চুক্তি অনুযায়ী টাকা পাবে বলে সিদ্ধান্ত হয় এবং এই মর্মে তাদেরকে ৩টি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সালিশনামাও প্রদান করা হয়।

কিন্তু পাওনা টাকা পরিশোধ না করে ভুক্তভোগী আলাউদ্দিনসহ কয়েকজনের জনের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৬ মার্চ ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে শাহেদ। এরপর ৩০ জুলাই আলাউদ্দিন বাদি হয়ে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে শাহেদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্নসাত ও প্রতারণা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় শাহেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ১৭ আগষ্ট দুপুরে শাহেদ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে শাহেদকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। ৩১ আগস্ট আসামির পক্ষে ফের জামিন আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে দেন।