আজ

  • মঙ্গলবার
  • ১৩ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী খুনের ঘটনায় চারদিনেও ধরা পড়েনি রাকিব

আপডেট : অক্টোবর, ১৫, ২০২০, ১২:১৭ অপরাহ্ণ

অফিস ডেস্ক>>>
ফেনী শহরের পাঠানবাড়ী সড়কের তাসফিয়া ভবনে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ইউনুছ নবী বাবু হত্যা মামলার প্রধান আসামী ছাত্রলীগ নেতা ইউনুছ নবী রাকিবকে গত চারদিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আলোচিত এ মামলায় ভবন কেয়ারটেকার মোজাম্মেল হক শাহীনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত তিনদিনের রিমান্ডে শাহীন ভয়ানক এ হত্যাকান্ড সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে মুখ খুলছেন না। তবে তারা শাহীনের দেয়া তথ্য অধিকতর যাচাই-বাছাই করছেন। ইতিমধ্যে তার দেয়া তথ্যমতে, হত্যাকান্ডের নেপথ্য কারণ উদঘাটনে সম্ভাব্য কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে পূর্বশত্রুতা কিংবা মাদক বানিজ্য ও নারী ঘটিত কোন বিষয় থাকতে পারে বলে আলোচিত হচ্ছে। কী কারণে এ ভয়ানক আক্রোশের শিকার বাবু ও শাহরিয়ার তা এখনো পুলিশ নিশ্চিত হতে পারছেনা। এমনকি এ ঘটনায় কারা জড়িত তাদের শনাক্ত করতে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুদ্বীপ রায় মরিয়া হয়ে কাজ করছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা সুদ্বীপ রায় ফেনীর সময় কে জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে ২ বছর আগে বাবুর সাথে শাহীনের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে শাহীনের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার অপর আসামী রাকিবকে গ্রেফতারেও পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

এদিকে রাকিব নিজকে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি দাবী করলেও পৌর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাকিব ছাত্রলীগের কোন পর্যায়ে নেতৃত্বে নেই।

এর আগে রবিবার আদালতে শাহীনকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে সোমবার ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওইদিন বিকালে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ফেনী মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়।

প্রসঙ্গত; শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে পুলিশ বাবুর লাশ উদ্ধার করে। একই ট্যাংক থেকে আগেরদিন সকালে আহত অবস্থায় তার অপর বন্ধু শাহরিয়ারকেও উদ্ধার করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শুক্রবার ভোরে পাঠানবাড়ী সড়কের তাসফিয়া ভবনের নিচতলার গ্যারেজের কক্ষে কেয়ারটেকার মোজাম্মেল হক শাহীন পানি দিয়ে রক্ত পরিষ্কার করছিলেন। তা দেখতে পান একজন ভাড়াটিয়া। ওই ভাড়াটিয়া তার ছেলেকে ডেকে বিষয়টি দেখান। তারা রক্ত কোথা থেকে এল জানতে চাইলে মোজাম্মেল সদুত্তর দিতে পারছিলেন না। এসময় তারা পাশের সেপটিক ট্যাংক থেকে মানুষের গোঙানির শব্দ পেয়ে এগিয়ে আসেন। তারা ট্যাংকের ঢাকনা তুলে মুমূর্ষু অবস্থায় শাহরিয়ারকে উদ্ধার করে থানায় খবর দেন। পুলিশ শাহরিয়ারকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সেখান থেকে শাহরিয়ারকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাবু হত্যার ঘটনায় মা রেজিয়া বেগম বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।