আজ

  • রবিবার
  • ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ফেনী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী হত্যা মামলায় আসামি ঘোড়া সোহেলের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ

আপডেট : জানুয়ারি, ১৭, ২০২১, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার>>> ওমর আলম

আসামি ঘোড়া সোহেলের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ ডক্টর বেগম জেবুন্নেসা। আরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। আজ রোববার সকাল ১১ টায় জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় প্রদান করেন।

ফেনী জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হাফেজ আহম্মদ জানান, রায় ঘোষনার সময় আসামী সোহেল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। দন্ডপ্রাপ্ত আসামী ইচ্ছে করলে আগামী ৭ দিনের মধ্যে উচ্চ আদারতে আপিল করতে পারবে। অন্যথায় দ্রুত রায় কার্যকর করা হবে বলে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

হাফেজ আহম্মদ আরো জানান, গত বুধবার পর্যন্ত মামলার বাদী নিহতের ছেলে আবদুল মোতালেব, জামাল উদ্দিন, জাকির হোসেন, আবুল হোসেন ও রাসেল সহ ১৫ জনের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রোববার রায় ঘোষনার জন্য সময় নির্ধারণ করেন। এ মামলার আসামী রনি হাওলাদার, মেহেদী হাসান রাব্বি ও জাহিদুল ইসলামের বয়স কম হওয়ায় তাদের বিচার হবে শিশু আদালতে।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবীবুর রহমান চৌধুরী এ মামলায় সোহেল হাওলাদার ও তার ভাই রনি হাওলাদার, মেহেদী হাসান রাব্বি ও জাহিদুল ইসলামকে আসামী করে গত বছরের ২৯ এপ্রিল আদালতে অভিযোগ পত্র (চার্জশীট) প্রদান করেন। চার্জশীটে ১৭ জনকে সাক্ষী করেছিলো তন্ত কর্মকর্তা।

মামলার নথি সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ২৯ মে বৃহস্পতিবার রাতে শহরের বারাহীপুর গাজীক্রস রোডের হাসান আলী ভূঞা বাড়ির পাশে হক ম্যানশন থেকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সফিউল্যাহর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দিন দেড় ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৫৫ হাজার টাকা লুট করে আসামীরা। এ ঘটনায় তার ছেলে আবদুল মোতালেব বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই মোঃ মাঈন উদ্দিন ভূঁইয়া’কে। এসআই মোঃ মাঈন উদ্দিন ভূঁইয়া এই মামলায় সন্দেহভাজন ৫ জনকে আটক করে। এসআই মো. মাঈন উদ্দিন ভূঁইয়া অন্যত্র থানায় বদলি হয়ে গেলে এসআই হাবীবুর রহমান চৌধুরীকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ মামলায় রাব্বি, রনি ও সাকিব অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তৌহিদুল হক ও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট জাকির হোসাইন এর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান চৌধুরী এক আসামী সোহেল ওরফে গোড়া সোহেলকে অভিযুক্ত করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এবং অপর তিন আসামীকে অভিযুক্ত করে শিশু আদালতে গত বছরের ২৯ এপ্রিল অভিযোগপত্র দাখিল করে। পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে সোহেলের বিরুদ্ধে ৩০ সেপ্টেম্বর চার্জগঠন করেন জেলা ও দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছা। নিহত সফিউল্যাহর গ্রামের বাড়ি সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের আলমপুরে।